প্রথমেই বসের ভক্তদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিছি।

 

কারণ মাশরাফির মত এক জন খেলোয়ার,দক্ষ নেতা, অভিভাবক, সাদামাটা ভদ্রলোকে নিয়ে লেখা খুব সহজ নয়। খেলোয়ার মাশরাফি ৩৬ টেষ্টের ৬৭ ইনিংসে ৩ টা ৫০ সহ ৭৯৭ রান আর বেলিংএ ৫১ ইনিংসে নিয়েছেন ৭৮ উইকেট।
ওডিআইতে ১৭৯ ম্যাচে নিয়েছেন ২৩২ উইকেট। ব্যাট হাতে ১৩২ ইনিংসে ১৭৮৪ রান করেছেন।
টি টুয়ান্টির ৫৪ ম্যাচের ৫৩ ইনিংসে শিকার করেছেন ৪২ উইকেট আর ৩৯ ইনিংসে ব্যাট চালিয়ে ৩৭৭ রান তুলেছেন ১৩৬.১০ স্টাইকরেইটে।
ওনার এই ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে কি সাদামাটা মনে হচ্ছে? তিনি কিন্তু মোটেও সাদামাটা না।
লিখতে গেলে আমার হাতে ব্যাথা শুরু হবে,তবে ভাইয়ের ক্যারিয়ার কতটা সমৃদ্ধ সেটা বলে শেষ করা যাবে না!!
বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে সফল ফাস্ট বোলার!!
ওয়ানডে ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি উইকেট এর মালিক!
এখন পর্যন্ত টি-টুয়েন্টি ও ওয়ানডে(ওয়ানডে তে ১৫০০+ রান করা প্লেয়ারদের মধ্যে) তে সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেটের মালিক!!
প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টি-টুয়েন্টি তে টপ টেনে আসা(অলরাউন্ডার)!!
কখনো বল হাতে ছুরেছেন আগুন কখনো ব্যাট হাতে প্রতিপক্ষের বোলারদের বেদম পিটিয়েছেন। আগের দশকের প্রায় সব জয়ী ম্যাচের স্বপ্ন সারথি তিনি। অনেক বড় বড় জয়েও ওনার অবদান অনেক। শেষের দিকে এসে রানের গতিটাও বেশ সচল রাখেন যদিও ইদানিং উনার ব্যাটটা আগের মত হাসে না। ২০১৪ তে অধিনায়কত্বে এসে দলের আমূল চেহেরাই বদলে দিয়েছেন। বেড়ছে ওনার বেলিং ধার। ক্যারিয়ারে একটি অন্যতম সেরা সময় পার করছেন ব্যাক্তিগত পারফমেন্স দিয়ে। তবে আপামরজনসাধারণের ভালবাসা আর ওনার ক্ষুরধার মস্তিষ্কের ক্যাপটেন্সি বার বার উনার পার্ফমেন্সকে চাপা দিয়ে দেয়।

 

তবে এটা দোষের কিছু না ভালবাসা থেকেই এটা করে হয়তো
কিন্তু ওনার ক্যারিয়ারটা মোটেও সহজ ছিল না।কখনো খুড়িয়ে খুড়িয়ে বল করেছেন। কখনো বা ব্যান্ডেজ নিয়ে। ৭ /৮ বার সার্জেন্টের ছুড়া চলেছে তার পায়ে । তবু তিনি দমে যান নি। বার বার ফিরেছেন তার আপন স্বরূপে। হয়ে ওঠেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের একজন প্রতাপশালী ক্রিকেটার। তবুও এই ব্যাক্তিটি একদম সহজ সরল, অহংকারহীন। কখনো জুনিয়রদের জরিয়ে ধরে সাহস দিচ্ছেন, কখনোবা কপালে পরম মমতায় চুমু একে দিচ্ছেন। টিমমেটদের জন্য না খেলার হুমকি দিচ্ছেন অথবা টিম কম্বিনেশনের জন্য নিজের জায়গা ছেড়ে দিয়েছেন। মোট কথা দলটাকে এক সুতায় বেধেঁ দিয়েছেন এক মায়াবী জালে।

মেইন টপিক থেকে দূরে চলে এসেছি। তাছাড়া পোষ্টও বড় হয়ে যাচ্ছে। তবে একটা কথা না বললেই নয়। ক্রিকেট বিশ্ব আরও একটা শোয়েব আখতার বা শচীনের জন্ম দিতে পারবে কিন্তু একটা মাশরাফি আর জন্ম নিবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here