TEAM BANGLADESH
TEAM BANGLADESH

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৮ রানে হারিয়ে সেন্ট কিটসে আবারও বিজয়ের পতাকা উড়িয়েছে। বিদেশের মাটিতে নয় বছর পর পেয়েছে সিরিজ জয়ের স্বাদ। চোখজুড়ানো, মনকাড়া এই সেন্ট কিটসকে বাংলাদেশ ভুলবে কী করে!

এই দলই যে টেস্ট সিরিজে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল, সেটা বোঝার উপায় কই! প্রথম ওয়ানডেতে দাপুটে জয়ের পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে হৃদয়ভাঙা পরাজয়। কিন্তু সব ভুলে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে আরও একবার গর্জে উঠল বাংলাদেশ। ৩০০ পেরনো স্কোর গড়ে উইন্ডিজকে ১৮ রানে হারিয়ে দিল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।

যে জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ উঠল বাংলাদেশের ঝুলিতে। ফুরাল লম্বা সময়ের অপেক্ষা। নয় বছর পর বিদেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ দল। উইন্ডিজের বিপক্ষেও ব্যবধানটা সমান। ঘরের মাটিতে পারলেও ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে নয় বছর সিরিজ জেতা হয়নি বাংলাদেশের। এবার আর ২০০৯ সালের মতো ভঙ্গুর দল নয়; ক্রিস গেইল, এভিন লুইস, জেসন হোল্ডার, রোভনান পাওয়েলদের মতো ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া দলের বিপক্ষে ট্রফি উঁচিয়ে ধরলেন মাশরাফি, সাকিব, তামিমরা। ওয়ানডেতে উইন্ডিজের বিপক্ষে এটা বাংলাদেশের তৃতীয় সিরিজ জয়।

সেন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কে ম্যাচসেরা তামিম ইকবালের ১০৩ রানের সঙ্গে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ঝড়ো গতির ৬৭। মাঝে সাকিবের ৩৭ ও অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার ২৫ বলের ৩৭ রানের ইনিংসে ছয় উইকেটে ৩০১ রান তোলে বাংলাদেশ। যা উইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। জবাবে গেইল, শাই হোপ, পাওয়েলদের দারুণ ব্যাটিংয়ের পরও ২৮৩ রানে থামতে হয় স্বাগতিকদের।

জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে উইন্ডিজের শুরুটা মন্দ হয়নি। উদ্বোধনী জুটিতে ৫৩ রান যোগ করেন ক্রিস গেইল ও এভিন লুইস। যদিও লুইস স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারেননি। মাশরাফি বিন মুর্তজার বোলিংয়ের সামনে তাকে অসহায়ই দেখিয়েছে। শেষপর্যন্ত মাশরাফির বলেই সাজঘরে ফিরতে হয় ১৩ রান করা ক্যারিবীয় এই ওপেনারকে। আগের দুই ম্যাচেও মাশরাফির বলে আউট হয়েছিলেন তিনি।

লুইস ফিরলেও উইন্ডিজকে বিপদে পড়তে হয়নি। শাই হোপকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন গেইল। এই জুটি উইন্ডিজকে ১০৫ রানে পৌঁছে দেয়। গেইলকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন রুবেল হোসেন। এরআগেই অবশ্য ৬৬ বলে ছয়টি চার ও পাঁচটি ছক্কায় ৭৩ রান করেন ক্যারিবীয় এই ব্যাটিং ঝড়। শাই হোপ লড়াই চালিয়ে গেছেন। তার সঙ্গে যোগ দেন শিমরন হেটমেয়ার। ৬৭ রানের এই জুটি ভেঙে দেন স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ।

হোপ ঠান্ডা মাথাতেই খেলে গেছেন। হুমকি হয়ে ওঠা রোভনান পাওয়েলের সঙ্গে আরও অনেক পথ পাড়ি দিয়েছেন তিনি। ৯৪ বলে পাঁচটি চারে ৬৫ রান করা হোপকে ফিরিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি ফেরান মাশরাফি। বাকিটা সময় তাণ্ডব চালিয়েও উইন্ডিজকে জয় এনে দিতে পারেননি রোভনান পাওয়েল। ৪১ বলে পাঁচটি চার ও চারটি ছক্কায় পাওয়েলের করা অপরাজিত ৭৪ রান ক্যারিবীয়দের হারের ব্যবধান কমিয়েছে মাত্র।

 

এই ম্যাচেও টসভাগ্য বাংলাদেশের পক্ষে এসেছে। টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। কিন্তু টস জয়ের সুবিধা এবারও নেওয়া হয়নি। আগের দুই ম্যাচের মতো আক্ষেপেই শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী জুটি বাংলাদেশকে স্বস্তির শুরু এনে দিতে পারেননি। প্রথম দুই ওয়ানডের মতো আরও একবার হতাশা উপহার দিয়েছেন এনামুল হক বিজয়। ওয়ানডে সিরিজে রানের ফোয়ারা বইয়ে দেওয়া তামিম ইকবাল চেনা ছন্দে থাকলেও বিজয় ফেরেন ৩০ বলে মাত্র ১০ রান করে।

তামিমের সঙ্গে যোগ দিয়ে আরও একবার ইনিংস গুছিয়ে তোলার কাজে মন লাগান আগের দুই ম্যাচেই হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া সাকিব আল হাসান। এই মিশনেও দলকে স্বস্তি এনে দিয়েছে এই জুটি। এই জুটিতে ১১৬ রানে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। দলে স্বস্তি ফেরালেও সাকিবের পথ দীর্ঘ হয়নি। ৩৭ রান করে থামেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার। ততক্ষণে তামিম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন।

দুই সেঞ্চুরি ও এক হাফ সেঞ্চুরিতে সিরিজসেরার পুরস্কার জেতা তামিম ও মুশফিকের ব্যাটে নতুন করে পথচলা শুরু হয়। ১৫০ পেরোয় বাংলাদেশ। এমন সময় উইন্ডিজ স্পিনার অ্যাশলে নার্সের বলে পরাস্থ হন ১২ রান করা মুশফিক। উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যান ফিরে গেলেও ম্যাচের বাকিটা সময় রাজত্ব করেছে বাংলাদেশই। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন তামিম। এই জুটিতে ২০০ পূর্ণ করে বাংলাদেশ।

এর মাঝে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১১তম সেঞ্চুরি তুলে নেন দেশসেরা ওপেনার তামিম। সেঞ্চুরি পূর্ণ করে উইন্ডিজ লেগ স্পিনার দেবেন্দ্র বিশু ঘূর্ণিতে দিক হারান তামিম। ফেরার আগে ১২৪ বলে সাতটি চার ও দুটি ছক্কায় ১০৩ রানের মহা কার্যকর এক ইনিংস খেলেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। তামিম ফেরার পর আসল ব্যাটিং শো দেখিয়েছে বাংলাদেশ। শেষ ১০ ওভারে ৯৬ রান তোলে মাশরাফি বিন ‍মুর্তজার দল।

আর এই রান তোলার নায়ক মাহমুদউল্লাহ ও অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। রান তোলার কথা মাথায় রেখে ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নামেন মাশরাফি। হতাশ করেননি ওয়ানডে অধিনায়ক। ২৫ বলে চারটি চার ও একটি ছক্কায় করেন ৩৭ রান। তবে আসল কাজটি করেছেন মাহমুদউল্লাহ। ঝড়ো গতির ব্যাটিংয়ে ৪৯ বলে পাঁচটি চার ও তিনটি ছক্কায় ৬৭ রানের হার না মানা এক ইনিংস খেলেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। মূলত তার ব্যাটিংয়েই ছয় উইকেটে ৩০১ রানে পৌঁছায় বাংলাদেশ।